ঘড়ির কাঁটায় তখন ১০:২২ এর কিছু বেশি। রোজকার দিনের মতোই আমাদের রাতের আড্ডা জমে উঠেছে ধোয়া ওঠা চায়ের কাপে। অমনি তখনই উড়ু উড়ু লিলুআ বাতাস, আর তার কয়েক মুহূর্ত পরেই আচমকা আসা এক পশলা বৃষ্টি। চায়ে আর কয়েকটা চুমুক দিয়ে উঠতে উঠার আগেই শুকনো অ্যাসফাল্টের রাস্তায় বৃষ্টির টপ টপ ফোঁটা পড়া শুরু। দমকা দমকা বাতাস, আর বৃষ্টির মিশ্রণে যে ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল, তা শুধু পৃথিবীর সবকিছুর প্রতি আরও মায়া তৈরি করে, অনেক স্মৃতি জাগিয়ে দেয়।
চায়ে শেষ চুমুকটা দিয়েই বাইক ইগনিশন দিয়ে রয়্যাল এনফিল্ড নামক আমার দ্বিচক্রযানে চেপে বসলাম। বাইকের চাকার নিচে ভেজা রাস্তা। বাইকের গতি না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিলাম। চোখে-মুখে বৃষ্টির ঝাপটা এসে লাগছে, আর মুখে এক চিলতে হাসি, আর মনে সেই অদ্ভুত ভাল লাগা। কিছু সময়ের জন্য মনে হল হারিয়ে গেলাম রকি বিচের সেই সৈকতের ধারে, ৩ জন কিশোর এর সাথে যুক্ত হয়ে সান্তা মনিকা পর্বতের পাশ ধরে যেন এগিয়ে চলেছি।
চারপাশের মানুষ যখন ছাতার নিচে বা কার্নিশে মাথা লুকোচ্ছে, আমরা তখন বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলছি আর কাকভেজা হয়ে হাসছি।


গত বছর চায়ের দোকানে বসে ভেবেছিলাম জীবন সুন্দর; আজ বাইকের হ্যান্ডেল ধরে, বৃষ্টিতে সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, জীবনটা নেহায়েত মন্দ নয়, ছোট ছোট বিষয়গুলো অনুভব করার এক দারুণ উৎসবও বটে।

Add your first comment to this post