Categories
কম্পিউটার বিষয়ক

ওয়েবেই পাওয়া যাবে মাইক্রোসফটের অফিস ২০১০

বিশ্বের শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কর্পোরেশন তাদের বহুল ব্যবহৃত অফিস ডেস্কটপ সফটওয়্যারের মানউন্নয়নের লৰ্যে তৈরি করেছে অফিস ২০১০। মাইক্রোসফটের ভাষ্য মতে, নতুন সংস্করণের এই অফিস ২০১০ ডেস্কটপ সফটওয়্যার প্যাকেজে ব্যবহারকারীদের কল্যাণে বেশ কিছু নতুন এপিৱকেশন সংযোজন করা হয়েছে যার মাধ্যমে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা অতিসহজেই তাদের ডকুমেন্টস, ই-মেইল, ভিডিও এবং ফটোসমূহ এডিট করতে সৰম হবে। সেই সাথে এই নতুন অফিস ২০১০ এ সংযোজন করা হয়েছে বিনামূল্যে কম্পেনিয়ন ভার্সন, যা ওয়েব ব্রাউজারে ব্যবহার সম্ভব হবে। উলেৱখ্য, সারা বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফট অফিস ডেস্কটপ সফটওয়্যার প্যাকেজ প্রেজেন্টেশন, স্প্রেডশিট এবং অন্যান্য ডকুমেন্টস এর কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহারকারী পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে এবং ব্যবহারকারীদের নিকট নির্ভরশীল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সৰম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে তাদের চার’শ মিলিয়ন ব্যবহারকারীদের কল্যাণে অফিস ডেস্কটপ সফটওয়্যার প্যাকেজের মানউন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করে। মাইক্রোসফটের নতুন অফিস ২০১০ প্যাকেজটি ডেস্কটপ সফটওয়্যারকে ওয়েবে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মাইক্রোসফট তাদের নতুন ডেভেলপকৃত এই অফিস ২০১০ সফটওয়্যারটির ডেভেলপ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় এবং বর্তমানে ‘টেকনিক্যাল প্রিভিউ’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে খুঁজে দেখা হচ্ছে ব্যবহারকারী পর্যায়ে এই সফটওয়্যারটির যেকোনো ধরনের কারিগরী ত্র্বটির বিষয়টিকে। একই সাথে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ঘোষণা দিয়েছে তাদের নতুন এই অফিস ২০১০ সফটওয়্যার প্যাকেজটি সারাবিশ্বের অগণিত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের কল্যাণে বিনামূল্যে ওয়েবে সহজলভ্য করা হবে। এই অফিস ২০১০’তে থাকবে ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ও ওয়াননোটের সর্বশেষ সংস্করণ। ওয়েব বেইজড প্রোগ্রাম হিসেবে এই অফিস ২০১০ সাধারণ ব্যবহারকারী এবং কর্পোরেট উভয় পর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সৰম হবে নিঃসন্দেহে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন অফিস ২০১০ ওয়েব প্রোগ্রাম সম্ভবত মাইক্রোসফটের প্রথম অনলাইন অফিস প্যাকেজে তৈরির প্রথম পদৰেপ। যার মাধ্যমে এই ব্রাউজার বেইজড অফিস ২০১০ প্রোগ্রামসমূহ ইন্টারনেট ভিত্তিক সমাজ ব্যবস’ায় অভ্যস্ত নগরজীবনে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মাইক্রোসফটের প্রতি অধিকতর নির্ভরশীল করতে সৰম হবে। সবচাইতে অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে, মাইক্রোসফট কর্পোরেশন তাদের সর্বাধুনিক ফিচার সম্পন্ন এই অফিস ২০১০ সফটওয়্যার প্যাকেজটি বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের কল্যাণে প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়েবে এই বছরের শেষ নাগাদ অফিস ২০১০ ছাড়া হবে বলে মাইক্রোসফটের ঘোষণায় উৎসাহিত হয়েছে অগণিত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা। যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই বিষয়ে তাদের মতামত প্রদান করে বলেছে, ‘মাইক্রোসফটের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মাইক্রোসফট প্রায় চার’শ কোটি ডলার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে। যদিও এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সামগ্রিক অর্থে উপকৃত হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন সারা বিশ্বজুড়ে তাদের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কম্পিউটিং শিল্পে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সৰম হবে।’
সমসাময়িক সময়ে গুগলের নতুন অপারেটিং সিস্টেম বাজারে চালু করার ঘোষণার পরিপ্রেৰিতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক পর্যায়ে নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির পদৰেপ হিসেবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন মাইক্রোসফট এই নতুন অফিস ২০১০ সফটওয়্যার প্যাকেজটি ব্যবহারকারী পর্যায়ে বিনামূল্যে ওয়েবে সহজলভ্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বিশেষত্ব
মাইক্রোসফট অফিস ২০১০ টেকনিক্যাল প্রিভিউ পর্যালোচনা করে দেখা যায় মাইক্রোসফট এবং তাদের অফিস সফটওয়্যার প্যাকেজ ব্যবহারকারীদের কল্যাণে নতুন এই অফিস ২০১০’তে মূলত নতুন তিনটি বিষয়ে প্রাধান্য প্রদান করেছে। যেমনঃ সাধারণ ব্যবহারকারী এবং কর্পোরেট ব্যবহারকারী উভয়ের কাজের গতি বর্তমানের অফিস প্যাকেজ হতে গতিশীলতা আনয়ন, ওয়েব এপিৱকেশন সংযোজনের মাধ্যমে অতি সহজেই কাজের প্রয়োজনে ওয়েবে সংযুক্ত হবার সুযোগ এবং প্রয়োজনে নিজ ডকুমেন্টস বিষয়ে অন্যদের সাথে সহজেই তথ্য বিনিময় করার সুযোগ। মাইক্রোসফটের ভাষ্য মতে, তাদের নতুন ডেভেলপকৃত এই অফিস ২০১০ একজন ব্যবহারকারী কম্পিউটার, ফোন এবং ওয়েব-এর সর্বত্র ব্যবহার সমন্বয় করতে সৰম। যার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রজেক্ট দ্র্বত করা সম্ভব। ইতোপূর্বে মাইক্রোসফট অফিস ২০০৭-এ চালু করা ‘দ্য রিবন’ এপিৱকেশন এই নতুন অফিস ২০১০ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন’ অফিস ২০১০ এ একজন ব্যবহারকারী রিবন ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সকল ধরনের এপিৱকেশন সুইট ব্যবহার করতে সৰম কন্টেক্সচুয়াল ট্যাবস এবং ফিচারসমূহের মাধ্যমে। বিশেষ করে আউটলুক ২০১০ প্রদান করা হচ্ছে কুইক স্টেপ সেকশন। যার মাধ্যমে রিবন অতি দ্র্বত টিম মিটিং, কাস্টম ফরওয়ার্ড ম্যাসেজসহ স্পেসিফিক রিসিপেন্ট প্রদানে সৰম। একই সাথে এক্সেলে একজন ব্যবহারকারী যেকোন ধরনের ফর্মূলা কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে ট্যাব সমূহে ফ্লিপ ব্যবহার করতে সৰম হবে যার মাধ্যমে ড্রায়াগ্রাম ও চার্ট ইনসার্ট, দ্র্বত বিভিন্ন সোর্স হতে ডাটাসমূহ নিয়ে আসতে সৰম হবে।

উল্লেখযোগ্য কারিগরী বৈশিষ্ট্য
মাইক্রোসফটের নতুন এই অফিস ২০১০-এ সংযোজন করা হয়েছে ‘দ্য নিউ পেস্ট প্রিভিউ অপশন’। যার মাধ্যমে একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী অতি সহজে তাদের সম্প্রতিক যেকোনো ধরনের ডকুমেন্ট তাদের প্রয়োজনানুযায়ী দেখতে সৰম হতে পারবে এবং নিজের প্রয়োজন ব্যবহার করতে পারবে। একই সাথে এই অপশনটি ব্যবহারের মাধ্যমে অফিস ২০১০ ব্যবহারকারীরা তাদের যেকোনো ধরনের ফাইল এবং ডকুমেন্টসে দ্র্বত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে সৰম হবে। বিশেষ করে আউট লুকে কনভার্সেসশনের সময় লং ইমেইল থ্রেট সমূহ বর্তমানে চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও অফিস ২০১০-এ একজন ব্যবহারকারী অতি সহজেই স্পেসিফিক পার্টিসিপেন্ট খুঁজে পেতে সৰম হবে দীর্ঘ স্ক্রলিং পদ্ধতি পরিহারের মাধ্যমে। বিশেষ করে ‘কনফিউজিং থ্রেট’ হিসেবে বিবেচিত এলার্ট পদ্ধতি অনুসরণ না করে দ্র্বততার সাথে স্পেসিফিক পার্টিসিপেন্ট বের করা সম্ভব হবে এই নতুন অফিস ২০১০ প্রোগ্রামে।

ফ্ল্যাশিয়ার ফিচার
যে সকল ব্যক্তি তাদের কাজের প্রয়োজনে ডকুমেন্টস তৈরি এবং প্রেজেন্টেশন ভিত্তিক কাজকর্ম বেশি করে থাকেন তাদের জন্য মাইক্রোসফট বিশেষ কিছু ফ্ল্যাশিয়ার ফিচার সংযোজন করেছে তাদের নতুন এই অফিস ২০১০-এ। বর্তমানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রোগ্রামে ভিডিও এডিটিং সুবিধা অন্তভূক্ত থাকলেও নতুন এই অফিস ২০১০-এ সংযুক্ত ফিচার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি ভিডিও প্রেজেন্টের সময় দর্শকদের নিকট বিশাল আকৃতির ভিডিও কনটেন্ট থেকে শুধুমাত্র আপনার কাঙ্খিত ভিডিও অংশ উপস’াপন করার বাড়তি সুবিধা উপভোগ করবেন। সেই সাথে অফিস ২০১০-এ রয়েছে ভিডিও ইফেক্ট, ফেডস এবং ভিডিও ট্রিগার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন করার সময় এনিমেশন ব্যবহার করার সুযোগ। সেই সাথে স্ট্যাটিক প্রেজেন্টেশনের সময় বিভিন্ন পাবলিকেশন, নিউজলেটার অথবা পামপেৱট তৈরি করতে বর্তমানের ন্যায় অতিরিক্ত থার্ড পার্টি ইমেজ এডিটর ব্যবহার করতে হবে না। মাইক্রোসফটের নতুন এই অফিস ২০১০ সফটওয়্যার প্যাকেজে সংযোজন করা হয়েছে ইজি একসেস টু লিগাটুরস এন্ড স্টাইলিসটিক অল্টারনেটস ফন্ট সমূহ যার মাধ্যমে অতি সহজেই আপনি পাবলিকেশনের সকল ধরনের কাজ দ্র্বততার সাথে করতে সৰম হবেন।
মাইক্রোওয়্যার প্যাকেজের অন্যতম বৈশিষ্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বর্তমানের তুলনায় দ্র্বত ডাটা শেয়ার করার সুযোগ আদান প্রদানের বিষয়টিকে। ফলে একজন অফিস ২০১০ সফটওয্যার প্যাকেজ ব্যবহারকারী যেকোন স’ানে অবস’ান করে অফিসের সকল ধরনের কাজ করতে সৰম হতে পারবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহকর্মীদের সাথে তাদের তথ্যের আদান প্রদান করতে সৰম হবে।
গত মঙ্গলবার মাইক্রোসফট কর্পোরেশন তাদের অফিস ২০১০ সফটওয়্যার প্যাকেজের ‘টেকনিক্যাল প্রিভিউ’ কার্যক্রম শুর্ব করার ঘোষণা প্রদান করলেও সম্পূর্ণরূপে সুরৰিত অফিস ২০১০ সফটওয়্যার প্যাকেজটি এ বছরের শেষ নাগাদ ব্যবহারকারীদের নিকট প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন। তবে ইন্টারনেটে বিনামূল্যে এই অফিস ২০১০ সফটওয়্যার সহজলভ্যতার ঘোষণা মাইক্রোসফটের প্রতি মানুষে নির্ভরশীলতা বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি করলেও বিনামূল্যে সফটয়্যারটি ব্যবহারের সুযোগ নিঃসন্দেহে উপকৃত করবে বিশ্বজুড়ে অগণিত উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের।

By সাইফ দি বস ৭

পুরো নাম সাইফ হাসান। ছোটকাল থেকেই প্রযুক্তি, কম্পিউটার সম্পর্কিত বিষয়ে প্রচুর আগ্রহ এবং কৌতূহল। বর্তমানে কর্মরত আছেন উইডেভসের প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে। হিউম্যান সেন্টার্ড ডিজাইন, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং এজাইল প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টেই ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন।

মন্তব্য করুন